শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮



আফগানিস্তানে অপহৃত ভারতের সাত ইঞ্জিনিয়ার


আলোকিত সময় :
07.05.2018

আফগানিস্তানে কর্মরত সাত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ করল জঙ্গিরা। অপহরণ করা হয়েছে তাঁদের গাড়ির আফগান চালককেও। তাঁরা সবাই কেইসি নামের একটি ভারতীয় বিদ্যুৎ সংস্থায় কাজ করতেন। এখনও কেউ এই অপহরণের দায় না নিলেও আফগানিস্তান সরকারের একটি সূত্রের দাবি, এর পিছনে তালিবানের হাত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ভোরবেলা, উত্তর আফগানিস্তানের বাগলান প্রদেশের বাহ-এ-শামল এলাকায়। সেখানে কেইসি-র একটি সাবস্টেশন রয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দুকধারী জঙ্গিরা প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারদের গাড়িটি আটকায়। তারপর নিজেদের গাড়িতে তাঁদের তুলে নিয়ে চম্পট দেয়।

যে ক’টি ভারতীয় সংস্থা আফগানিস্তানে কাজ করে, কেইসি তাদের মধ্যে অন্যতম। দেশের বিদ্যুৎ জোগানের অনেকটাই আসে এই সংস্থাটির কাছ থেকে। কেইসি-র চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েন্‌কা জানিয়েছেন, অপহৃতদের দ্রুত মুক্তির জন্য সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে টুইট করেও তাঁরা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও একটি বিবৃতি দিয়ে এই অপহরণের কথা জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, ‘‘বাগলান প্রদেশে সাত ভারতীয়কে অপহরণ করা হয়েছে। এই নিয়ে আমরা সব সময়ে আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’’

তালিবানের তরফে এই অপহরণের দায় নিয়ে এখনও কোনও বিবৃতি জারি করা না হলেও এ ধরনের হামলার পিছনে সাধারণত তাদেরই হাত থাকে বলে দাবি আফগান পুলিশের। বাগলান প্রদেশের গভর্নর আব্দুলহাই নেমাতিকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আজকের ঘটনার পিছনেও যে তালিবানের হাত আছে, তার প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে এক তালিবান নেতার সঙ্গে কথাও বলেছেন নেমাতি। গভর্নরকে সেই নেতা জানিয়েছে, তারা ‘ভুল করে’ এই ইঞ্জিনিয়ারদের অপহরণ করেছে। জঙ্গিরা ভেবেছিল গাড়িতে সরকারি আফগান কর্মীরা রয়েছেন। বাগলান পুলিশের মুখপাত্র জবিউল্লা সুজা বলেন, ‘‘তালিবানই যে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের অপহরণ করেছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। এই বাগলান প্রদেশেরই কোথাও তারা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে আমরা তালিবান নেতাদের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করার চেষ্টা করছি। খবর পেয়েছি, তাঁরা এখনও জীবিত রয়েছেন।’’ ২০১৬ সালে এক ভারতীয় ত্রাণকর্মীকে অপহরণ করেছিল তালিবান। ৪০ দিন পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

২০০১ সালে আফগানিস্তানকে দু’শো কোটি ডলার সাহায্য করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিল নয়াদিল্লি। গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাস-বিধ্বস্ত এই দেশটিতে নতুন পরিকাঠামো গঠনে ভারত যে ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছে, তার প্রশংসা করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। এতে অবশ্য অস্বস্তি বেড়েছে পাকিস্তানের। কাবুল-নয়াদিল্লি বাণিজ্যের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ করতে নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে কোনও ফল ফেলেনি। ভারত-ইরান-আফগানিস্তান অক্ষ জোরদার করে চালু হয়েছে চাবাহার বন্দর। আমেরিকাও নানা ভাবে পাকিস্তানকে বার্তা দিয়ে বুঝিয়েছে যে, আফগানিস্তানে ভারতের অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ইসলামাবাদের চিন্তায় পড়ার কোনও যুক্তি নেই। বরং আফগানিস্তান জঙ্গিমুক্ত হলে আখেরে লাভ পাকিস্তানেরই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি