বৃহস্পতিবার ১৬ অগাস্ট ২০১৮



কুমিল্লায় সেতু ও সড়কসহ চার প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


আলোকিত সময় :
06.04.2018

  • গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়ক ও গৌরীপুর-হোমনা সেতু, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস এবং কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাস। একইসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ফোর-লেন প্রকল্পের শেষ অংশ হিসেবে ৩০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চার লেনবিশিষ্ট কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করা হয়। খবর বাসস’র।

৩৪৪ দশমিক ১৭৫ মিটার দীর্ঘ এবং ২১ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট প্রকল্পটি সড়ক, পরিবহন ও জনপদ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড সম্পন্ন করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপদ অধিদফতর ৬৩১ দশমিক ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৮ দশমিক ৯ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাসটি নির্মাণ করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়ক ও ১১২ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ গৌরীপুর-হোমনা সেতুটি ৭৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর নির্মাণ করেছে। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। আরও বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন-চিফ মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অনুষ্ঠানে ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। তাই দেশটাকে আমাদের সকলে মিলে গড়ে তুলতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব। উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে এই ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, নোয়াখালী এবং রংপুরে এই মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করা হবে। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুর রহমান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তি যেন বজায় থাকে সেইদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।’ এ দেশে সকল ধর্মের মানুষের বসবাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষই এদেশে স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। এটাই ছিল জাতির পিতার চেতনা এবং চিন্তা। তাই তিনি বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। যেটা ইসলামেরও মূল কথা। কারণ, ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মকে সম্মান করে। বাংলাদেশ সেভাবেই একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে, আমরা সেটাই চাই।’

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি