মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮



বিএনপির সাথে দরকষাকষি জোট শরিকদের


আলোকিত সময় :
04.04.2018

আগামী জাতীয় নির্বাচনেকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সাথে ২০দলীয় জোটের শরিকরা রফা করতে চায় এখনি। এনিয়ে দরকষাকষি শুরু করেছে কয়েকটি নিবন্ধিত শরিক দল। বিষয়টি নিয়ে তারা এতোদিন আড়ালে আবডালে আলোচনা করলেও প্রকাশ্য সমাবেশে জোটের চারটি শরিকদলের নেতারা আসন ভাগাভাগি নিয়ে রীতিমত ‘হুমকী’ দিয়েছে বিএনপিকে। কয়েকটি শরিক দল দ্রুত আসন সমঝোতার আলোচনা চাইছে। কিন্তু বিএনপির সাড়া দিচ্ছে না। এ নিয়ে শরিকদের ভেতরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে কর্নেল (অব) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারাল ড্রেমাক্রেটিক পার্টি-এলডিপি এবং জাগপা প্রার্থীদের তালিকা দিয়েছে বিএনপির কাছে। এলডিপির পক্ষ থেকে চলতি এপ্রিলের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির ফায়সালা করার দাবি তোলা হয়েছে।
শরিক দলের নেতারা বলছেন, সরকারি দল ও তাদের শরিকেরা নির্বাচনী প্রচারে নেমে গেছে। সরকার বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখে নির্বাচন দিয়ে দিতে পারে। তাই বিএনপিরও উচিত খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু করা। এ লক্ষ্যে শরিকদের সঙ্গে বসা, আশ্বস্ত করা। যদিও ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে যাবেই এমন ঘোষণা এখনও আসেনি। আবার জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় জোট ভোটে যাবে না, এমন কথাই বলছেন জোট নেতারা। এদিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্মেলনে আসন বণ্টনের দ্রুত ফায়সালা দাবি তুলে বক্তব্য দেন এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা এবং এলডিপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ। তারা হুমকী দেন এখনি আসন ভাগাভাগি না করলে ২০ দলীয় জোটে ঐক্য অটুট রাখা কঠিন হবে। তারা অভিযোগ করেন জোটের সম্প্রসারণের নামে যেনতেন দলকে জোটে নেয়া হলে জোট ভেঙ্গে যাবে। এখনি আসন ভাগাভাগির ফায়সালা করতে হবে।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপকে সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, নানা প্রলোভন ছিল, কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি গণতন্ত্র ও জোটের স্বার্থে। কিন্তু দুঃখ লাগে যাদের জন্য এই ত্যাগ করেছি তারা গত পাঁচ বছরে একবারও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।
রেদোয়ান আহমেদ বলেন, বিগত দশম সংসদ নির্বাচনে আমরা অংশ নিলে দশটি আসন, দুইজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী দেয়ার প্রস্তাব ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা বিসর্জন দিয়েছিলাম। বিএনপিকে বলব, কে কতজন মনোনয়ন চান তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন। তাহলে জোটের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর হবে। গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, এবার আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। শাহাদাত হোসেন সেলিম এপ্রিলের মধ্যেই আসন ভাগাভাগীর আলোচনার দাবি জানান।
এদিকে এখনই আসন বণ্টন নিয়ে দরকষাকষিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে বিএনপি। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে এ প্রসঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, গত ২৫ মার্চ বিএনপির সাথে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়েছে গুলশান অফিসে। শরিকদলের নেতারা সেখানে সিদ্ধান্ত নেন যে, জোট নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। কর্নেল অব. অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং জাগপা আগামী নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির জন্য প্রার্থী তালিকা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শরিক দলের অনেক নেতা। সেখানে শরিকরাই সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হবে না। কেউ তালিকাও দিতে পারবে না। এখন তাহলে কেনো হঠাৎ সময় বেঁধে দিয়ে আসন ভাগাভাগির আলোচনার দাবি করা হচ্ছে?
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে বিএনপির সঙ্গে ২০দলের বৈঠকে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হয়েছি যে, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে না। এই মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাকে মুক্ত করেই আসন বণ্টন নিয়ে কথা বলা হবে। আমরা জোটগতভাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে চাপাচাপিকে শোভন মনে করছেন না কয়েকটি শরিক দল নেতারা।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, এখন আমাদের মূল দাবি হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। এর বাইরে অন্য কিছু চিন্তা করছি না।  খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, এখন খালেদা জিয়াকে কিভাবে মুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা পরামর্শ এগিয়ে নিতে হবে। অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা গৌণ।
ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বলেন, সব শরিকদল এখন আসন ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি করতে আগ্রহী নন। প্রসঙ্গত যে, ২০-দলীয় জোটের নয়টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। এদিকে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচনের আগে তারা জোট সম্প্রসারণ করবে। ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী এবং বাম ধারার কয়েকটি দলের সাথে তারা কথা বলেছেন, যারা বিএনপি জোটে আসতে সম্মত। তবে ২০ দলের কয়েকটি শরিক দল এই জোট সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি