মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮



আগামী নির্বাচনে কেমন বিএনপিকে চায় আ’লীগ


আলোকিত সময় :
19.02.2018

ইয়াছিন রনি : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতিতে বলে আসছেন আগামী নির্বাচনে যেকোন পরিস্থতিতে বিএনপির অংশগ্রহনের বিষয়। গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আ’লীগও চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক। তবে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনে কেমন বিএনপিকে চায় এ প্রশ্ন জনমনে। অনেকেই মনে করছেন আগামী নির্বাচনে খালেদা-তারেক বিহীন বিএনপিকে চায় ক্ষমতসীনরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের বেশীরভাগ নেতার বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে যে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য একাধিক বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে দলটি ।
সম্ভাব্য বিকল্পগুলেঅর মধ্যে রয়েছে খালেদা-তারেকবিহীন বিএনপির একটি অংশকে নির্বাচনে আনা। আর খালেদা জিয়া ছড়া বিএনপি নির্বাচনে না আসলে ‘নামসর্বস্ব’ হলেও যতবেশি সংখ্যক দলকে নিয়ে নির্বাচন করে তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করা।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বিএনপি অস্তিত্ব রক্ষায় আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আওয়ামী লীগ চায় সব দল নির্বাচনে আসুক। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার কারনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেন নাকি পারলেন না সেটি মুখ্য নয়। সবার দৃষ্টিতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনের বাইরে ছাড় দেয়া যাবে না। তাছাড়া ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খালেদা জিয়া একটি বড় রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী। দুবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার দল বিএনপি তাকে নিয়ে নির্বাচনে আসবে নাকি আসবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে আমি বিশ্বাস করি খালেদা জিয়ার রায়ে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না ।
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের কারণে তার প্রতি বিএনপির কী মনোভাব এটা দলটিই ভালো জানে। তবে দুর্নীতি মামলায় তার সাজা হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা সাহস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড তার দুর্নীতির কারণে দেয়া হয়েছে, রাজনৈতিক কোনো কারণে নয়। এনিয়ে বিএনপি কী বলে না বলে ভাববার কিছু নেই। আওয়ামী লীগের অবস্থান খুবই পরিষ্কার।

আমরা চাই সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসতে পারবেন কিনা তা আদালত জানেন। এটা নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগের বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ চায় সব দলই নির্বাচনে আসুক। তাই বিএনপির নেতাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়া উচিত। বিএনপি খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে আসবে, নাকি আসবেনা এটা তাদের ব্যপার। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. মো. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালতের রায়ে বিএনপি নেত্রী দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। দুর্নীতি আর রাজনীতি এক না, একসাথে চলতেও পারেনা। দুর্নীতিবাজরা নির্বাচন করার অধিকারও রাখেন না ।

তিনি বলেন, কেউ নির্বাচনে আসুক বা না আসুক নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন দিবেন। তবে আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ সব দলই নির্বাচনে আসুক।

ক্ষমতাসীন আ’লীগের এমন মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ যে কোনো মূল্যেই যে ক্ষমতায় থাকতে চায় এবং নির্বাচনে জিততে চায়, এটা তাদের কার্যকলাপ থেকেই বোঝা যায়।

তিনি বলেন, আজ খালেদা জিয়াকে জেলের ভেতর রেখে তারা (সরকার) বলছে বিএনপি যাতে নির্বাচনে আসে এবং প্রস্তুতি নেয়। এ কথা থেকেই তো বোঝা যায় তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে বিএনপির যে অংশ নির্বাচনে যেতে চাইবে, তাদের নিয়ে নির্বাচন হবে।

সুজন সম্পাদক বলেন, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ শুধু বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি নয়, বেশি বেশি দলকে নিয়ে নির্বাচনের কথা ভাবছে। তবে অনৈতিক কোনো কিছুর পরিণামই শুভ হয় না। আওয়ামী লীগ যদি ভাবে তারা অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকবে, নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদল হতে দিবে না, তাহলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে, অশান্ত এবং সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা বদল হবে। খালেদা জিয়া ছাড়া তো আর বিএনপি না। এখানে তাকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, আওয়ামী লীগের উচিত হবে সব দল নিয়েই নির্বাচন করা। তাহলে তারা তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দলটির নেতাদের বক্তব্য থেকে যা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল চায় না খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসুক। তবে তারা একই সঙ্গে চাচ্ছে বিএনপি যাতে আসে। তাহলে এর মানে কী দাঁড়ায়? বলাই যায় বিএনপির একটি অংশ। নিশ্চই এক্ষেত্রে কোনো না কোনো কথা হয়েছে।

অজয় রায় বলেন, আওয়ামী লীগও চাচ্ছে বিএনপি, জেপি, বামপন্থি দলগুলোসহ মোটামুটি সকল দল যেন এই নির্বাচনে আসে। তবে তাদের করণীয় হবে এজন্য একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা। অবশ্যই খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নয়, যা তারা চাচ্ছে। কারণ খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ কিন্তু আশঙ্কায় ছিল এবং আছে। তারা নিজেদের ফাঁদেই ফেঁসে গেছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল­াহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে খালেদা জিয়াও আসবেন, বিএনপিও আসবে। আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ পাবে না।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান (গোয়েন্দা সংস্থা) ‘র’ এর এজেন্টদের মাধ্যমে বিএনপিতে ফাটল ধরিয়ে বিএনপির একটা অংশ নিয়ে নির্বাচন করার যে পাঁয়তারা, তা কখনোই বাস্তবায়ন হবে না।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে বলছে। কিন্তু তাদের খালেদা জিয়ায় এতো ভয় কেন? তা না হলে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে বলতো না তারা।’
তিনি বলেন, অনৈতিকভাবে খেলায় বিজয়ী হওয়ায় কোনো গৌরব নেই। খালেদা জিয়া বড় ফ্যাক্টর। তাকে বাদ দিয়ে দেশে গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের সুযোগ নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি