মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮



নিয়ম মেনে ব্যাংকিং করছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক


আলোকিত সময় :
25.01.2018

সরকারের পলিসি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সকল নির্দেশনা মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। আমরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা সহজভাবে পৌঁছাতে ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখাকে ই-ব্যাংকিংয়ের আওতায় এনেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করায় গত বছর আমরা মুনাফাও কম করেছি। মুনাফা নয়, সেবাই আমাদের মূখ্য বিষয়। বর্তমানে আমাদের ব্যাংকের স্প্রেড (ঋণ এবং আমানদের সুদের হার) পাঁচ শতাংশের নিচে। কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই আমরা সন্তুষ্টির সাথে স্বাধীনভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ঋণের পরিধি বিস্তৃত করে এবং গ্রাহকদের চাহিদানুযায়ী ঋণ দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দৈনিক

আলোকিত সময়ের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মামুন-উর-রশিদ। এছাড়াও তিনি ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। পাঠকদের জন্য সে বিষদ আলোচনা তুলে ধরা হলো- সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান ও রমজান আলী

আলোকিত সময় : ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
মামুন-উর-রশিদ : তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। প্রথমত: সরকারের পলিসি, দ্বিতীয়ত: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা আর তৃতীয়টি হলো সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত করতে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে ঋণ সুবিধার আওতায় আনতে কাজ করছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রাণ। তাদের সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

ইতোমধ্যে আমরা ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে আনতে সক্ষম হয়েছি। বৃহৎ ঋণের চেয়ে আমরা ছোট ঋণে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রিটেইলার, এসএমই, কৃষি, গবাদি পশু, মসলা ও মসলাজাতীয় পণ্য, ফলজসহ বেশকিছু আইটেমের ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আগ্রহী মহিলাদের ক্ষেত্রে বিনা জামানতে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সহজ উপায়ে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখা প্রধানকে গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত গ্রাহকরা যেন ঋণ পেতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। চলতি বছর সর্বম্নি সুদ রয়েছে মসলা ও মসলাজাতীয় পণ্যে। আর সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ সুদ ধার্য করা হয়েছে ক্রেডিট কার্ডে। কোন সেক্টরের ঋণে সুদের হার কত ভাগ তা ব্যাংকের প্রত্যেকটি শাখায় টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত সময় : ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার কথা বলুন?

মামুন-উর-রশিদ : বর্তমানে সবমিলিয়ে ব্যাংকের মূলধন রয়েছে এক হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। ডিপোজিটের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ২০১৭ সাল শেষে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সাল শেষে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে বিদায়ী বছরে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দুই হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে এসএমই ঋণ বিতরণে ব্যাংক ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। টার্গেটের চেয়েও বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বিদায়ী বছরে এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৫০ কোটি টাকা। আর ঋণ বিতরণ হয়েছে এক হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭২৮ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া একই বছর কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮৪ কোটি টাকা। বিতরণ হয়েছে ৪৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৮ কোটি টাকা বেশি বিতরণ হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের পেইড অব ক্যাপিটালের পরিমাণ ৭৯২ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে তুলনামূলক কম পরিচালন মূনাফা হয়েছে যার পরিমাণ ৩৬০ কোটি টাকা।

আলোকিত সময় : ২০১৭ সালে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ কত?

মামুন-উর-রশিদ : অন্য ব্যাংকগুলোতে যখন রেমিট্যান্স আসায় ধীর গতি তখন আমাদের ব্যাংকে আগের বছরের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ২০১৬ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৭৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫৬ কোটি টাকায়। আমাদের ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থার কারণেই অধিক সংখ্যক প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর ফলে বেড়েছে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ।

আলোকিত সময় : খেলাপি ঋণ নিয়ে কিছু বলুন?

মামুন-উর-রশিদ : খেলাপি ঋণ আদায়ের জায়গাটায় কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। বিদায়ী বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেনি। বরং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। তবে ৯শ’ কোটি টাকা ঋণ রি-শিডিউল করা হয়েছে। চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে।

আলোকিত সময় : এমডি হিসেবে আপনার সফলতা কোনটি?

মামুন-উর-রশিদ : উৎকর্ষতার কোনো শেষ নেই। তবে এতোটুকু বলতে পারি ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর আমি এমডির দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রাহক ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা চার লাখ ৫৭ হাজার। বছরের ব্যবধানে এক লাখ ১১ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি কিছুটা হলেও সন্তুষ্টি এনে দিয়েছে। আগামীতেও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় সফলতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

আলোকিত সময় : কোন কাজটি এখনো অপূর্ণতা বলে মনে করেন?

মামুন-উর-রশিদ : টার্গেট অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে না পারা কিছুটা ব্যর্থতা বলা যেতে পারে। আর ব্যর্থতা অবশ্যই মনোকষ্টের কারণ। তবে গতবছর দেশে সার্বিকভাবে বিনিয়োগের গতিটা একটু কম ছিল। এ কারণে পুরোপুরি সফলতা আসেনি। চলতি বছর ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ টার্গেটপূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে। বর্তমানে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ১২২টি। আরও তিনটি শাখা উদ্বোধনের অপেক্ষায়। গ্রাহক সেবা বাড়াতে চলতি বছর আরও ১০টি শাখা খোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মামুন-উর-রশিদ দেশের অন্যতম প্রধান মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকের শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে যোগদান করেন। সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে আজ তিনি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চৌকস ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাংকার হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি