বৃহস্পতিবার ২৪ মে ২০১৮



নতুনত্বই ইগলুর আভিজাত্য


আলোকিত সময় :
23.01.2018

ক্রেতাদের আস্থা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়। ইগলু মান এবং স্বাদে সেরা। এ কারণেই ইগলুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছি এটাই আমাদের বড় পাওয়া। কোয়ালিটির কারণেই আইসক্রিম জগতে গ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ইগলু। আর নতুনত্বই ইগলুর আভিজাত্য। আইসক্রিমে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ব্রান্ড ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জি এম কামরুল হাসানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন দৈনিক আলোকিত সময়ের স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামন ও রমজান আলী

ইগলুর বিশেষত্ব কী এমন প্রশ্নের জবাবে ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম কামরুল হাসান বলেন, আবদুল মোনেম লিমিটেড (এএমএল) ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে এবং ইগলু আইসক্রিমই বাংলাদেশে একমাত্র হালাল স্বীকৃত আইসক্রিম কোম্পানি। স্বাদ ও গুণগত মান রক্ষায় ইগলু কখনোই আপস করেনি। আইসক্রিম তৈরিতে ইগলু ব্যবহার করে গুণগত মান সম্পন্ন কাঁচামাল। আইসক্রিম তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো দুধ। এ ছাড়া পরিশোধিত চিনি, বাটার ওয়েল, চকলেট, নাট, ফ্রুট ও ফ্লেবারসহ অনেক কিছুই ব্যবহার হয়। আমরা বেশিরভাগ কাঁচামাল আমদানি করি নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক এবং ইতালি থেকে। এ ছাড়া ইগলুর নিজেস্ব কালেকশন সেন্টার রয়েছে। যেহেতু সব বয়সের মানুষই আইসক্রিম খেতে পছন্দ করেন তাই সবার কথা বিবেচনায় নিয়েই আমরা বিভিন্ন স্বাদের এবং বিভিন্ন বয়সীদের খাওয়ার উপযোগী আইসক্রিম তৈরি করে থাকি। এটা পরীক্ষিত সত্য কথা যে, ইগলুর আইসক্রিম ইউরোপীয় দেশগুলোর চেয়েও কোয়ালিটি সম্পন্ন।
কেন ইগলু সেরা? এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুল হাসান বলেন, আইসক্রিমকে আমরা একটা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। এ জন্যই আমরা সেরা। তিনি বলেন, অধিক মুনাফা করা আমাদের লক্ষ্য নয়। মানুষের সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছি। সে চেষ্টার ফলও আমরা পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ইগলু দেশের মানুষের আস্থার পণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণেই আবদুল মোনেম গ্র“প গত ৫৩ বছরে মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছে এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে আমরা ব্যবসা করে যাচ্ছি।

ইগলুর অর্জনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় এ্যাওয়ার্ড হলো মানুষের আস্থা। এর চেয়ে আর বড় কিছু হতে পারে না। ২০১৩ সালের সেরা আইসক্রিম ব্র্যান্ড নির্বাচিত হয় জনপ্রিয় ও সুস্বাদু আইসক্রিম ‘ইগলু’। এছাড়াও বেশ কিছু এ্যাওয়ার্ড ইগলুর ঝুলিতে জমা পড়েছে। বর্তমানে ইগলুর ৮৬ প্রকারের আইসক্রিম রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই আমরা প্রতিবছর তিন থেকে পাঁচ প্রকার নতুন আইসক্রিম বাজারজাত করে থাকি। দই আইসক্রিম হতে পারে এটা মানুষের কল্পনাতেও ছিল না। সেটাও এবার আমরা বাজারে এনেছি। ক্রেতাদের আগ্রহই আমাদের ইনোভেশনের পথ দেখাচ্ছে। দেশের বড় বড় শহরগুলোর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়েও ইগলুর পরিচিতি এটা অবশ্যই আমাদের প্রচেষ্টার ফল।
কামরুল হাসান বলেন, ইগলুতে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে প্রায় ৯শ’ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন। এছাড়া সারাদেশে ইগলুর ২৭৩টি ডিসটিবিউটর রয়েছে।

কোম্পানি নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তারমধ্যে অন্যতম হলো বাজার সম্প্রসারণ। এ ব্যাপারে ইগলুর প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী আইসক্রিমের যে টেম্পারেচার দরকার তা মেইনটেইন করা বড় চ্যালেঞ্জ। আর গ্রাম অঞ্চলে এটা অনেক কঠিন। তারপরেও গ্রামাঞ্চলে আমরা ইগলু পৌছানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আইসক্রিম রাখার ফ্রিজের দাম কমানোর দাবি করেন তিনি।

ইগলু অফিস জানায়, কমলার স্বাদে ইগলুর আইসক্রিমের নাম ‘ওরেঞ্জ স্টারবাস্ট’। আবার স্ট্রবেরি স্বাদে ‘স্ট্রবেরি ইওগার্ট, স্ট্রবেরি অ্যান্ড ক্রিম আর স্ট্রবেরি অ্যান্ড চিজি। প্রতিটার স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন। এ ছাড়া কফি ও চকলেট স্বাদের সাথে আছে বাহারি সব স্বাদের কম্বিনেশন। সূত্র আরও জানায় দেশে আইসক্রিম তথা আইসক্রিম রিলেটেড পণ্যের মার্কেট সাইজ আড়াই হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে ব্রান্ডেড দেড় হাজার কোটি ও ননব্রান্ডেড এক হাজার কোটি টাকা। আর এ মার্কেটের ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ইগলু।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি