বৃহস্পতিবার ২৪ মে ২০১৮



জননেত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব দেবেন আমৃত্যু তা পালন করবো :রোকেয়া প্রাচী


আলোকিত সময় :
21.01.2018

গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ আ’লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন গুণী এই অভিনেত্রী। নিজ এলাকা ফেনী-৩ আসন (সোনাগাজী-দাগনভ‚ঞা) থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করছেন। আলোকিত সময়ের সঙ্গে একান্ত আলাপনে এই গুণী অভিনেত্রী বলেছেন তার জীবনের নানা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইয়াছিন রনি।

আলোকিত সময় : আপনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে যুক্ত হলেন কীভাবে ?
রোকেয়া প্রাচী : সেই প্রশ্ন যদি করেন আমাকে বলতে হবে যে, আমার জšে§র পর থেকে আমি রাজনীতি করি। যেহেতু আমার বাবা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। আমাদের বাড়িতে আ’লীগের সভা-সমিতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হতো। মিটিং হতো। আমার মনে আছে, তখন ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করতে মিরপুরের পল­বী থেকে দাঁড়ালেন তখন আমার বাড়ি থেকে এসব কর্মকাণ্ড হয়েছে। ওই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের জায়গা ছিলো আমাদের বাড়ি। কিংবা যখন কোনো মিছিল মিটিং হতো আমাদের বাড়িতেই হতো। এইসব দেখে বেড়ে ওঠা আমার। ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শহীদ হন সে সময় আমার বাবা শ্রমিক লীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কাজেই, আমাদের বাড়িতে সবসময়ই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতো। এসময় বিএনপির জামায়াতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং আমাদের বাড়িতেই হয়েছে। সুতরাং বলতে হয়, তখন থেকে রাজনীতিতে আমার সক্রিয়তা। আমি ঢাকার পল­বীতে বড় হলেও দাদার বাড়ি সোনাগাজী চরচান্দিয়া গ্রামে হাজী আবদুল কুদ্দুস পিলানের বাড়ি, আমাদের বাড়িতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবা, আমার দুই চাচা। আমাদের বাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি হিসেবেই পরিচিত। আর সক্রিয়তা বলতে আমি যেটা বুঝি কেউ লিখবে কেউ মিছিল মিটিং করবে, টেলিভিশনে বলবে, কেউ সভা-সমাবেশ সেমিনার করবে-এসবের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতি করবেন, সাধারণ মানুষের কথা বলবেন। কিংবা ধরুন, যে অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে সে কি রাজনীতি করছে না। যারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছে তারা কি রাজনীতি করছে না। বস্তুত, আমাদের মতো এক্টিভিস্টরা সে কাজগুলোই করছে। অতএব আমি রাজনীতিতে এখন যুক্ত হয়নি। আমার বাবার সময়কাল থেকে আমি পারিবারিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত। এছাড়াও জাহানারা ইমামের আন্দোলনে এবং এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় একজন শিল্পী হিসেবে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। সক্রিয় ছিলাম স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের দাবিতে। বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছিলাম রাজপথে। এছাড়াও ৯০-এর সেই উত্তাল সময়ে আমরা রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে প্রচুর পথ নাটক করেছি। আরণ্যকের পাশাপাশি কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের হয়ে আবৃত্তি চর্চাতেও সক্রিয় ছিলাম। ওই সময় সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত না হলেও মনেপ্রাণে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলাম।

আলোকিত সময় : আওয়ামী রাজনীতিতে কেন?
রোকেয়া প্রাচী : আমার জš§ আ’লীগ পরিবারে। আমার পরিবারের সবাই আ’লীগের কর্মী, আমি অভিনয় করি আমি নির্মাণ করি আমার বিষয়বস্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। আ’লীগ একটি প্রগতিশীল দল। যেমন আমি কিছুদিন আগে ‘তালিকা’ নামে একটি নাটক বানিয়েছি। যে সকল রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী মুক্তিযুদ্ধের নাম নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঢুকে গিয়েছে আমি তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি নাটকের মাধ্যমে। সারা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে একটি বলিষ্ঠ বিষয় নিয়ে আমি নাটকটি বানিয়েছি। টেলিফিল্ম বানিয়েছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কিছু রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী ঢুকে গেছে; নতুন একটি স্বচ্ছ তালিকা করে তাদের বাদ দিতে নাটকটির মাধ্যমে আহŸান জানানো হয়েছে। এর চেয়ে বড় রাজনীতি আর কি হতে পারে। কি বলেন?
আলোকিত সময় : রাজনীতিতে এসে কেমন বোধ করছেন?
রোকেয়া প্রাচী : রাজনীতিতে এসে অনেক স্বাচ্ছন্দবোধ করছি। এ কারণে যে আমি জাতির জনকের হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠনের কর্মী। এছাড়া স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এছাড়াও রাজনীতিতে এসে পেয়েছি অগুণিত মানুষের ভালোবাসা। কাছে গিয়েছি খেটে খাওয়া মানুষের। কাছে যেতে পেরেছি মানবতার মা জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এর চেয়ে বেশী আনন্দের আর কি হতে পারে।
আলোকিত সময় : আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন এমন আলোচনা সর্বত্র- সত্যি কি প্রার্থী হচ্ছেন?
রোকেয়া প্রাচী : আলোচনা আছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এলাকার মানুষই দাবি তুলেছে আমার প্রার্থীতার। আমি যদি যোগ্য হই এবং আমার কর্মকাণ্ড দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করে যে দায়িত্ব দেবেন তা আমৃত্যু পালন করব। নির্বাচন না করলেও এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি ভবিষ্যতে দাঁড়াবো এবং যতটুকু সম্ভব এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়া রাজপথে নেমেছি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে, নিজে ক্ষমতাবান হতে নয়। জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কে জাগিয়ে তোলাই হচ্ছে আমার মূল কাজ। এ জন্য আমরা সমমনা বেশ কিছু মানুষ মিলে একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা এমন একটা প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে নিজেদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাধারণ মানুষেরা একত্রিত হবে। আমারা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক নৌকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এ সরকারের উন্নয়নের কথা। সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছি বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্যের চিত্র। ফলে কখনো কুমিল­া, কখনো ফেনী, কখনো রাজশাহী, বান্দরবান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের কাছে নৌকার উন্নয়নের কথা পৌঁছে দিতে ছুটে যাচ্ছি। তৃণমূলে গিয়ে সামাজিক সংগঠনের হয়ে এ কাজগুলো কিন্তু আমি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের জন্য, শেখ হাসিনার নির্দেশে করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে করি নৌকার বিজয়ের জন্য। নৌকা প্রতীক নিয়ে যে প্রার্থী হোক না কেন তার বিজয় সুনিশ্চিত হওয়াটাই বড় বিষয়।

আলোকিত সময় : এলাকায় কি কাজ শুরু করেছেন?
রোকেয়া প্রাচী : প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শ হচ্ছে মাঠ প্রস্তুত করতে। তাই আমি মাঠ প্রস্তুত করছি, সেটা সোনাগাজী-দাগনভ‚ঞা হতে পারে, পরশুরাম-ফুলগাজী হতে পারে, সেটা কুমিল­া হতেপারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হতে পারে, সেটা নরসিংদী হতে পারে, যে কোনো জায়গায় তৃণমূল পর্যায়ে যদি আমার ভ‚মিকা রাখার সুযোগ থাকে তাহলে আমি রাখব।
এলাকার বিষয় নিয়ে আমি অবশ্যই নির্বাচনে আগ্রহী। এটা আমার এলাকা, সে কারণে আমাকে যদি নেত্রী যোগ্য মনে করেন আমি সে দায়িত্ব পালন করব। আর যদি নেত্রী মনে করেন আমার চেয়ে যোগ্য কাউকে কিংবা নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিতে চান আমি তার জন্য কাজ করব। কারণ, আমার উদ্দেশ্য তো রোকেয়া প্রাচীর জন্য নৌকা নয়, নৌকার জন্য রোকেয়া প্রাচী। রোকেয়া প্রাচীর কাজ হচ্ছে নৌকার জন্য মাটি তৈরি করা যে মাটিতে নৌকার বীজ বপন করা সম্ভব। কাজেই আমি মাটিটা প্রস্তুত করছি সেটা নৌকার জন্য; রোকেয়া প্রাচীর জন্য নয়। সর্বোপরি, নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করছি, নেত্রীর জন্য কাজ করছি।

আলোকিত সময় : মনোনয়ণ পেলে কি ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
রোকেয়া প্রাচী : মনোনয় পেলে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে যা আমি এখনই বলতে চাই না। পরে আমি বিশদ আকারে বলব। মনোনয় পেয়ে আমি আসলে প্রতিনিধি হবো কাদের? জনগণের, কাজেই আমার এলাকার মানুষ কি চায় তার চাওয়া পাওয়াটাকে গুরুত্ব দিতে হবে আগে। তবে আমি যাদের প্রতিনিধি হবো তারা কি ভাবছে, তারা কি বলতে চাইছে, তাদের চাওয়া পাওয়াটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরে এসব আমি লিখিত আকারে আপনাদের বলব।
আলোকিত সময় : ফেনী ৩ আসন থেকে অনেকগুলো প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, যা অনেক চ্যালেঞ্জিং, কীভাবে নিচ্ছেন?
রোকেয়া প্রাচী : দেখুন, চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাও সাহসিকতার কাজ। ফেনীর মানুষ যে চৌকস, ফেনীর মানুষ সবদিক থেকে ব্যতিক্রম, অসাধারণ, বুদ্ধিমান, এক্সটা অডিনারী, এটা ফেনীর মাটির গুণ, তাই এখান থেকে যারা নমিনেটেড হবেন তারাই সবাই অসাধারণ। সবাই যোগ্য। এটা আমার অনেক আনন্দের জায়গা, আমার ফেনীতে যারা আছেন আমি মনে করি সকলেই অসাধারণ। ফেনী হচ্ছে গর্বের শহর, ফেনী ১, ২, ও ৩ বলেন সবগুলোই আসনের আ’লীগের কর্মীরা অসাধারণ। কাজেই ফেনী থেকে যদি চ্যালেঞ্জিং লোকজন দাঁড়ায় এটাতো অনেক গর্বের বিষয়। আমি চ্যালেঞ্জটাকে উপভোগ করি। আজকে আমি দাঁড়িয়েছি বলে আরেকজন নৌকার যিনি দাঁড়িয়েছেন তাকে আমি অসম্মান করতে পারি না। তিনি আমার আ’লীগের লোক তিনি আমাদেরই সৈনিক। বঙ্গবন্ধুর লোক। তিনি নিঃসন্দেহে যোগ্য লোক। অযোগ্য লোক আ’লীগের কর্মী হতে পারে না।

আলোকিত সময় : অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতির মাঠে। দুটি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। কেমন লাগছে?
রোকেয়া প্রাচী : এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমি যেখানেই কাজ করতে গিয়েছি মানুষ আমাকে দারুণভাবে নিয়েছে। একজন রাজনীতিবিদের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের মন বোঝা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের দলের একজন কর্মী যেভাবে গ্রহণ করবে, সাধারণ মানুষের বেলায় বিষয়টা একই রকম নয়। আমার বড় সুবিধা হলো আমি প্রতিটি পরিবারের ঘরে যেতে পারছি। এটা আমার সৌভাগ্যও বটে। আমি মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলেছি, এতিমখানার ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি, মসজিদের আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি, সবাই সবার জায়গা থেকে আমাকে সহযোগিতা করছে। তরুণ প্রজšে§র সঙ্গে কাজ করেও ভালো লাগছে। আমার কাজের বেলায় নবীন-প্রবীণের এক মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে আমার নির্বাচনি এলাকা।

আলোকিত সময় : রাজনীতির কারণে অভিনয় কী কমে যাবে? প্রভাব পড়বে?
রোকেয়া প্রাচী : অবশ্যই, প্রভাব পড়বে। আমি কখনো প্রচুর কাজ করিনি। সব সময় বেছে বেছে অভিনয় করেছি। এখনো বেছে বেছে কাজ করছি। এই সময়ে অভিনয়ের ক্ষেত্রে তো একটু সেক্রিফাইস করতেই হবে। সব তো এক সঙ্গে হয় না। তাই অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে রাজনীতির জন্য কিছুটা ছাড় দিতেই হবে। আর এটা মেনেই তো রাজনীতি করতে এসেছি।

আলোকিত সময় : আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন
রোকেয়া প্রাচী : ব্যক্তিগত জীবন বলতে আমার ২ মেয়ে বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ান কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে আর ছোট মেয়ে সানি ডেলে পড়ে। আর মা আছে তিনি মিরপুরে থাকেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি