বৃহস্পতিবার ২৪ মে ২০১৮



ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন হউক


আলোকিত সময় :
15.01.2018

এম. সোলায়মান : শুরু হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর। এ বছরের ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের সংসদ আসনগুলো থেকে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। তারই ধারাবাহিকতায় বরগুনা-১ আসন থেকেও মনোনায়ন প্রত্যাশীরা চেয়ে আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী সংসদ নির্বাচনে কে হবেন নৌকার মাঝি? তবে জনমনে বিরাজ করছে নতুনত্বের ডাক। পরিবর্তনের হাওয়া বইছে বরগুনার সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে কি সত্যিই এবারের সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তন হতে চলছে নৌকার মাঝি?

নির্বাচনের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বলেন, ‘এবারের সংসদ নির্বাচন আমাদের জন্য জয় লাভ করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস পরিবেশ পরিস্থিতি ভেবে চিন্তা করেই বরগুনা-১ আসনের মনোনায়ন দিবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে মনোনায়ন দিবেন আমরা জেলা আওয়ামী লীগ তার সঙ্গেই থাকবো। যে কোন পরিস্থিতিতেই হউক আওয়ামী লীগকে বরাবরের মত জয়যুক্ত করতে আমরা প্রস্তুত।’

এবারের সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনায়ন চাইবেন কিনা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকাকালীন সময় থেকে আওয়ামী লীগের কাছে মনোনায়ন চাচ্ছি। প্রত্যেক নির্বাচনের সময় সব ঠিকঠাক থেকেও শেষ পর্যন্ত কোথা থেকে কি কারনে মনোনায়ন ছুতে পারিনা আমার জানা নেই। এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনায়ন চাইবো ইনশাআল্লাহ।”

এসময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, অবশ্যই তারা এবারের সংসদ নির্বাচনে বুঝে শুনেই প্রার্থী সিলেক্ট করবেন।

জাহাঙ্গীর কবির বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিন থেকে শুরু করে সংগঠনের সব ধরণের সমস্যা সমাধান করে আসছেন। দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সংগঠনের সকলকে নিয়ে অটুট পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দলের দুর্দিনে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে আগলে রেখেছেন। তিনি বরগুনার গণ মানুষের নেতা, জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবক বটে।

\জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাতিঘর শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বরগুনা জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির। তার হাত ধরেই অসংখ্য নেতাকর্মী ছাত্রলীগে যোগ দেয়। শুরু হয় বরগুনা জেলা রাজনীতির পরিবর্তন। তৎকালীন সময়ে সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে ও শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে বরগুনায় শুরু হয় ছাত্রলীগের দেশ গড়ার দুর্বার আন্দোলন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে মুখরিত হতে থাকে।

জাহাঙ্গীর কবির আওয়ামী লীগের দুর্দিনে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে দিয়েছেন সাহস, শক্তি ও প্রেরণা। এমনকি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল বের করেন আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর কবির। ওই সময় তার নেতৃত্বে একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদ মিছিলে অনেক সাধারণ জনতাও অংশ নেয়। তখন দেশের স্বৈরাচার অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও তারা যুদ্ধ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের জন্যই দলটির কেউ ক্ষতি করতে পারেনি। আওয়ামী লীগে অনেক ত্যাগী নেতা ছিলেন বলেই বারবার আঘাত করেও কেউ এ দলকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম, গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভ‚মিকা রাখার জন্য দলের সব ত্যাগী নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ও তাদের মূল্যায়ন করা হবে ।
প্রধানমন্ত্রীর কথা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। বরগুনার গণ মানুষের নেতা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবিরের মত দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজারো ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছেন। সংগঠনের কাছে যাদের অভিযোগ থেকেও নেই, তবুও দলের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন অবিরাম। এবারের সংসদ নির্বাচনে তাদের মূল্যায়ন করা হবে এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল হিসেবে জনমনে স্থান করে নিয়েছে। তৃৃণমূল থেকে তিলে তিলে গড়ে উঠা ত্যাগী নেতারাই আওয়ামী লীগের মূল ভিত্তি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে যারা ত্যাগী মনোভাব নিয়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তারা বাকীটা জীবনও দলের সঙ্গেই থাকবেন এ আমার বিশ্বাস।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি