বৃহস্পতিবার ১৬ অগাস্ট ২০১৮



ট্রাফিক পুলিশের সাফল্যে ১১ মাসে ৫০ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে


আলোকিত সময় :
11.12.2017

চাঁপানবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  :

চাঁপানবাবগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ সরকারি রাজস্ব আদায়ে যথেষ্ট সাফল্য দেখিয়েছে। বিভাগটি চলতি বছেরর এগারো মাসে সরকারি কোষাগারে জমা করেছে ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা। ২০১৭ সালে ১১ মাসে মোটরযান আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিপরীতে এই অর্ধ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে ট্রফিক বিভাগ। বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে ট্রাফিক বিভাগই শুধুমাত্র সরকারি রাজস্ব আয়ে ভূমিকা রাখে। গত বছর পুলিশ সুপার টি. এম মোজাহিদুল ইসলাম চাঁপানবাবগঞ্জে যোগদানের পর সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় কালে বলেছিলেন রাস্তায় লাইসেন্স বিহীন কোন মোটর সাইকেল চলবেনা। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে ট্রাফিক বিভাগ। রাজস্ব আদায় ও মোটরযান বিষয়ক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় দাড়িয়ে হেলমেট বিক্রি ও হেলমেট ব্যাবহারকারীদের হাতে গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ট্রাফিক বিভাগের সাহসী ভূমিকা ও রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারনে “সর্বোচ্চ সাহসী পুলিশ” পদক অর্জন করেন ট্রাফিক পরিদর্শক। স্থানীয় একটি পেশাজীবী সংগঠন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ট্রাফিক পরিদর্শক খলিলুর রহমানকে এ পদক প্রদান করেন।
ট্রাফিক অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ফিটনেস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই শহর এবং আশেপাশের এলাকায় চলাচল করছিলো অসংখ্য মোটরযান। এছাড়া অধিকাংশ মোটরযান চালকদের ছিলোনা ড্রাইভিং লাইসেন্স। পাশাপাশি চালকরা অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং করার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত মোটরযান আইন লঙ্ঘন করতেন । ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত এসব মোটরযান আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহৃত রয়েছে।
১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তথা সার্টিফিকেট অব রেজিস্ট্রেশন (বøু-বুক), তৃতীয়পক্ষ বীমা, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট, বাসের জন্য কন্ডাক্টর লাইসেন্স এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, শহরে চলাচলকারী অধিকাংশ যানবাহন চালকই মোটরযান অধ্যাদেশ মানেন না। বিআরটিএ’র তথ্যানুসারে শহরে চলাচলকারী কিছু কিছু মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকে না। ট্রাফিক বিভাগ পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এ সত্যতা মিলেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, রেজিস্ট্রিশন বিহীন যান, ফিটনেসবিহীন যান, ট্যাক্স-টোকেনবিহীন যানসহ মোটরযান আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ পরিচালিত অভিযানে মামলার সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত।
সূত্র আরও জানায়, শহরে মোটরযান আইন অমান্যকারী যানচালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করেছে ট্রাফিক বিভাগ।
পরির্দশক (ট্রাফিক) খলিলুর রহমান জানান, ট্রাফিক বিভাগ ছাড়াও বিআরটিএর মাধ্যামেও কোটি সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। মাননীয় পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা আর আমাদের তৎপরতার কারণে শহরের প্রায় ৯৫ ভাগ মোটর সাইকেল এখন নিবন্ধিত। এছাড়ও মোটরযান অধ্যাদেশে উল্লেখিত অন্যান্য শর্তের ব্যাপারেও কঠোর অবস্থানে ট্রাফিক পুলিশ। চলতি বছরে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতার কারনে বাধ্য হয়ে অসংখ্য চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অন্যান্য শর্ত পূরন করেছে।
ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন অভিযান সম্পর্কে চাঁপানবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, চলতিবছর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ যে সাফল্য দেখিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে অনেক কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল, ছোটবড় যানবাহনের মামলার পর রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করছেন অনেকেই। তিনি বলেন, জনগণ যদি ট্রাফিক আইন মেনে চলে তাহলে এ বিভাগ আরো ভালো সাফল্য দেখাতে পারবে ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি