বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » আজকের পত্রিকা » মামলা তুলে নিতে অব্যাহভাবে হত্যার হুমকি, থানায় ৭ জিডি
    শিক্ষক দম্পতির ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা বরখাস্ত



মামলা তুলে নিতে অব্যাহভাবে হত্যার হুমকি, থানায় ৭ জিডি
শিক্ষক দম্পতির ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা বরখাস্ত


আলোকিত সময় :
10.10.2017

মাসুদ হোসেন সোহেল, গফরগাঁও প্রতিনিধি

সঞ্চয় সব সময়ই দুর্দিনের বন্ধু। এ চিন্তা থেকে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক শিক্ষক দম্পতি একটি মাল্টি লেবেল কোম্পানির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ২০১২ সালে আত্বীয়-স্বজনসহ ৩০ লাখ টাকার ডিপোজিট স্কিম করেন। ময়মনসিংহ শহরের সিকে ঘোষ রোডে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে হাল ফ্যাশনের সাজ সজ্জার আড়ালে প্রতারনার ফাঁদ পেতে জন সাধারনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় প্যারাডক্স গ্রæপের প্যারডিক্স ফাইন্যান্স নামের একটি আপাদমস্তক ভূয়া প্রতিষ্ঠান। জনৈক রকিবুল হাসান রাজন এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত ২০১২ সালের ২১ জুলাই বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ৩০ কোটি টাকা নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে পালালো ফাইন্যান্স কোম্পানি প্যারাডক্স। দিশেহারা অসংখ্য গ্রাহক সংবাদ প্রকাশের পর অফিসে গিয়ে তালা ঝুলানো দেখে হায় হায় করে বাড়ি ফিরে আসে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকরা একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে দেন দরবার করেও সুফল পায়নি। সাধারন ডায়েরী করে গ্রাহকরা ক্ষান্ত হন। তাদেরই একজন গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রহিমা খাতুন । তার স্বামী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। টাকা উদ্ধারে নানা দ্বার ঘুরে ঠকেছেন অতি পরিচিতজন বাংলাদেশ ব্য্ংাকের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের নিকট। কথা দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত এই ফাইন্যান্স কোম্পানির ডিপোজিটের টাকা থেকে রহিমা খাতুন ও তার স্বজনদের টাকা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল হাসান রাজনের সাথে আলোচনা করে ফেরত দিবেন। এ নিয়েও অনেক জল ঘোলা করে টাকা আত্মসাত করলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার। বিভিন্ন তথ্য প্রমানাদি নিয়ে শিক্ষক রহিমা খাতুন স্মরণাপন্ন হলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনেরর কাছে। আবেদন-নিবেদন আর চিঠি চালাচালিতে গেল আরো সময়। উপরুন্ত রহিমা খাতুন পরিবারের জন্য একটি ল্যাপটপ কিনতে গিয়ে আবারো ফাঁসলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের নিকট। বালাদেশ ব্যাংকের একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ হাতে দিয়ে রহিমা খাতুনের কাছ থেকে নিয়ে গেলেন ৫০ হাজার টাকা। বাধ্য হয়ে এই ব্যাংকার সাত্তারের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ আমলি আদালতে মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে হাজতবাস করে জামিনে মুক্ত হয়ে শিক্ষক দম্পতিকে ফাঁসাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ল্যাপটপ চুরির দায়ে মামলা ঠুকে দেন আব্দুস সাত্তার। এদিকে ওই শিক্ষিকার মামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসনিক নির্দেশিকা, ২০০৩ এর ২৯ নং ধারায় ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করে কতৃপক্ষ। আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভুতপুর্ব গভর্নর ড: আতিউর রহমানের ছত্র ছায়ায় থেকে এঘটনা ছাড়াও অসংখ্য অপকর্ম করেছেন বলে দাবী করেন শিক্ষিকা রহিমা খাতুন। সাবেক এই গভর্নরের নাম ভাঙ্গিয়ে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। খোঁজ মিলছেনা প্যারাডক্স ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রকিবুল হাসান রাজনের। শিক্ষিকা রহিমা খাতুন বলেন, আমার আমানতের ৩০ লাখ টাকা আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফাইন্যান্স কোম্পনির জামানত থেকে উদ্ধার করে আত্মসাত করেছেন। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আব্দুস সাত্তার ও রহিমা খাতুনের ফোনালাপের অসংখ্য রেকর্ড নিসন্দেহে প্রমান করে অভিযুক্ত ব্যাংকার টাকা আত্মসাত করে ভিন্ন গল্প ফেঁদে তাদের হয়রানি করছেন। দূর্ণীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তটি প্রভাব খাটিয়ে স্থগিত রেখেছেন। ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের করা মামলার চার্জশিট ফাইল করে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আব্দুস সাত্তার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার না করেছেন।
শিক্ষিকা রহিমা খাতুনের অভিযোগ, মামালা তুলে নিতে ব্যাংকার আব্দুস সাত্তার নানা সময়ে বিভিন্নভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন। লেলিয়ে দিয়েছেন তার মাস্তান বাহিনী। কখনো মোবাইল ফোনে আবার সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন মামলা প্রত্যাহারের জন্য। ফলে বাধ্য হয়ে এক এক থানায় ৬টি জিডি করলেও হুমকি অব্যাহত রেখেছে ওই ব্যাংকার।
এসব বিষয়ে প্রতিকার ও টাকা উদ্ধারের জন্য রহিমা বেগম প্রধান মন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি