শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮



বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জাতিসংঘের


আলোকিত সময় :
13.09.2017

রোহিঙ্গাদের ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে 

সম্প্রতি মিয়ানমারে ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েক দিনের মাথায় ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার অভিযোগে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। সেনা অভিযানের মুখে রোহিঙ্গারা শরণার্থী হতে ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তে। এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে। এতো অল্প সময়ে এই বিরাটসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ করায় বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তাই যাতে রোহিঙ্গারা দ্রুত নিজ দেশে ফেরত যেতে পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করতে হবে। সে আহবানই জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেইন।

মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযানের ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি। ১১ সেপ্টেম্বর জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত অব্যাহতভাবে উন্মুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানাচ্ছি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার জন্য।

ভাষণে মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ইস্যুতে সরকারের গঠনমূলক সহযোগিতার প্রশংসা করে বিভিন্ন ইস্যুতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি ভারতে থাকা ৪০ হাজার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণারও সমালোচনা করেন।

জেইদ রা’দ আল হুসেইন বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে না দেওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ণয় করা যাচ্ছে না। কিন্তু যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে পাঠ্যবইয়ের জন্য ‘জাতিগত নিধনের’ উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই অভিযান স্পষ্টতই ভয়াবহ এবং তা আন্তর্জাতিক নীতির মৌলিক ভিত্তির লঙ্ঘন। আমরা অনেক খবর পেয়েছি এবং স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে নিরাপত্তাবাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়ারা রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিচ্ছে, একের পর এক বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করছে। এমনকি পলায়নরত বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করা হচ্ছে।
জেইদ রা’দ বলেন, আমি সরকারকে (মিয়ানমার) আহবান জানাচ্ছি চলমান নির্মম সামরিক অভিযান বন্ধ করার। অভিযানে আইনের যেসব লঙ্ঘন হয়েছে সেগুলোকে বিচারের আওতায় আনা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে ব্যাপক আকারের বৈষম্য রয়েছে তা নিরসন করার।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে করে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টাকারী রোহিঙ্গাদের মাইনের ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হতে পারে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যদি নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে মিয়ানমার সরকারের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৬২ সাল থেকেই কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অধিকার সংকুচিত করে আসছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। এই কারণেই অনেক মানুষকে জোর করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে যাতে করে তারা আর ফিরতে না পারে।

রোহিঙ্গারা নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে মিয়ানমার সরকারের এমন দাবি বন্ধের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের এই অবস্থান বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে। অথচ এই সরকারই নিজেদের সদিচ্ছার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল।

রাখাইনের সহিংসতা কবলিত অঞ্চলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এই উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে এসে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য সর্বজন গ্রাহ্য পন্থা খুঁজে বের করে সংকটের সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বাধ্য করতে হবে। আর এজন্য আন্তর্জাতিক সক্রিয় সমর্থন ও ভূমিকা অবশ্যম্ভাবী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি