শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » ইন্টারভিউ » “ ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিকল্প কোন পথ নেই ” – এম নাঈম হোসেন



“ ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিকল্প কোন পথ নেই ” – এম নাঈম হোসেন


আলোকিত সময় :
12.09.2017

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি কয়েক বছর যাবৎ দেখা যায় যে, রাজধানীতে অল্প বৃষ্টিপাত হলেই এর অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জন জীবনে যা ব্যাপকভাবে বিরুপ প্রভাব ফেলে। জনসাধারণ তাদের নিত্য নৈমত্যিক কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না। এ অবস্হা থেকে পরিত্রাণ পেতে আমরা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি, জলাবদ্ধতা রোধ করার বিভিন্ন উপায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দৈনিক আলোকিত সময় এর মুখোমুখি হয়েছিলেন ঢাকা ইয়ুথ এলায়েন্স এর প্রেসিডেন্ট এম.নাঈম হোসেন। তার সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো –

আলোকিত সময় : ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার ব্যাপারে আপনার মতামত কী ?

এম.নাঈম হোসেন : গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে যে, হালকা বৃষ্টিতেই রাজধানী ঢাকা জলাবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছ। এতে করে ঢাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটছে । জলাধার ভরাট করে এমন অবস্থা হয়ছে যে হালকা বৃষ্টিতে নগরবাসীকে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে । এই জলাবদ্ধতা অবশ্যই ১দিনের জন্যে হচ্ছে না। বিশ্বের আর কোনো দেশ বা শহর নেই যখোনে প্রতি বছর এরকম জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটে। এখনো যদি আমরা এই ব্যাপারে সর্তক না হয়, ভবিষ্যতে আমাদরে পরর্বতী প্রজন্মকে ভয়াবহ র্দুভোগ পোহাতে হবে।

আলোকিত সময় : আপনার মতে এই জলাবদ্ধতার কারণ কি ?

এম.নাঈম হোসেন : কোনো একটি বিশেষ কারণে ঢাকাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে তা নয় । আমাদের নানা অদূরর্দশী র্কমকান্ড এই পরস্থিতিরীর জন্য দায়ী।
ঢাকাতে এখন অনকগুলো ফ্লাইওভার এর নির্মাণ কাজ চলছে । এই নির্মাণ কাজের জন্য র্দীঘদিন রাস্তা খুঁড়াখুঁড়ি করে কাজ করা হচ্ছে , এ কারণেও সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে । আবার আমাদের শহরে ড্রেনেজ সিস্টেম এর অবস্থা খুবই খারাপ, লাগাতার বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি যাওয়ার রাস্তা নেই । একারণইে সামান্য বৃষ্টিত কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে থাকে, ভারী বৃষ্টিতে রীতিমতো বন্যা হয় । অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই পানি আটকে থাকে র্দীঘসময়।
জলাশয় গুলো ভরাট করে ফেলা হচ্ছে । এ বিষয়টি দেখার মনে হয় কেউ নেই । এক সময় ঢাকা শহর প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যমন্ডিত ছিল। যার মূলে ছিলো শহরের অভ্যন্তরে বয়ে চলা শতাধকি খাল। যেগুলি নগরীর চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, তুরাগ ও বালু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। প্রচলিত উন্নয়নের নামে অধিকাকাংশ খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। আজ অবশিষ্টগুলোও সঙ্কটাপন্ন । যেসব খাল দিয়ে এক সময় স্টীমার চলতো এখন সে পথে নৌকাও চলে না। খালের পানি এখন আর নদীতে গড়ায় না। খালগুলি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। স্বাধীনতা-উত্তর ঢাকা শহরে খাল ছিল ২৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে প্রবহমান খাল আছে ৭০ কিলোমটিার। রাজধানীতে সড়ক নির্মাণ, হাউজিং প্রকল্প আর অবৈদভাবে জমি দখলের কারণইে হারিয়ে গিয়েছে অনেক খাল। অবধৈ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাজধানীর খালগুলো দখলমুক্ত করার কিছুদিনের মধ্যেই আবার তা দখল হয়ে যাচ্ছ। সংশ্লষ্টিদের মতে, উচ্ছেদের পর মনিটরিং না করার কারণেই বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে দখলদাররা। এগুলো দেখার কেউ নাই ।
শুধু যে সরকার বা রাজউক দায়ী তা কিন্তু নয়। আমরা প্লাষ্টিক দ্রব্যাদি বা যেকোনো ময়লা আবর্জনা রাস্তায় ফেলি । সরকার যত ভালো ড্রেনেজ সিস্টেম ই বানাক না কেন , আমরা যদি রাস্তায় ময়লা ফেলে ড্রেনেজ ব্যবস্হা নষ্ট করা বন্ধ না করি তাহলে আসলে সরকার কে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই।

আলোকিত সময় : কীভাবে এই জলাবদ্ধতা রোধ করা যায় ?

এম.নাঈম হোসেন : ঢাকা কে অথবা বাংলাদেশ কে এই জলাবদ্ধতা থকেে মুক্ত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোন মেয়র বা সিটি র্কপোরশেন একা একা তা করতে পারবে না । এখানে প্রত্যকেরে আলাদা আলাদা ভূমিকা আছে, যা সবাইকে পালন করতে হব।
প্রথমেই অপরকিল্পতি নগরায়ন ব্যবস্হা থেকে আমাদের বের হতে হবে। রাজউক, সিটি র্কপোরেশন, মেয়র, কাউন্সিলর সহ সবাইকে একটি সিদ্ধান্তে এসে এক সাথে কাজ করতে হবে। খাল ভরাট করে যেই সকল স্থাপনা হয়ছে,সেগুলো সরাতে হবে। আগামীতে যাতে আর কোনো খাল ভরাট করে অবধৈ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হব। খালগুলো দখলমুক্ত রাখতে ওয়াসার মনিটরিং টিম গঠন করা দরকার।
রাজউককে আরো কঠোর হতে হবে স্থাপনার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে। সড়কগুলোতে যে খোঁড়া হচ্ছে বা হয়ছে, সগেুলো ঠিক করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকতে হবে। পুরো শহর এর রাস্তা ১সাথে না কেটে সিটি র্কপোরশেন যদি নর্দিষ্টি সময়ে শুধু বিশেষ এলাকার সড়কগুলো মেরামত করে তাহলে সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে।
তবে সবার আগে অবশ্যই জলাশয় গুলো পুনরুদ্ধার করা লাগবে। এর কোনো বিকল্প কোন পথ নেই ।

আলোকিত সময় : জলাবদ্ধতা নিরসনে এনজিওর ভূমিকা কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন ? এবং সিটি কর্পোরেশন এক্ষত্রেে কি করতে পারে ?

এম.নাঈম হোসেন : আসলে এনজিও, সিটি কর্পোরেশন বা অন্যান্য সরকারি সংস্থা এবং জনসাধারণকে একত্রে কাজ করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আজকাল অনেক এনজিও এসব নিয়ে কাজ করছে, এদের আরো সোচ্চার হতে হবে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন নগরীর ড্রেনেজ সিস্টেমের সার্বিক রক্ষনাবক্ষেন । খাল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে না পারলে প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতেই থাকবে।সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়াসা কে এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে । খাল দখল এবং ভরাট হয়ে যাওয়া , ড্রেনগুলো নিয়মতি পরিষ্কার না করা, ময়লা আর্বজনা সেখানে আটকে গিয়ে বৃষ্টির পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । রাজধানী এবং এর আশেপাশের খালগুলো দখলমুক্ত করতে পারলে এবং নিয়মিত এর রক্ষনাবক্ষেন করতে পারলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সঠিক বর্জ্য – ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বর্পূণ । যেখানে পানির প্রবাহ থাকে বা আছে, সেখানে যেন কোনো র্বজ্য ফেলে পানি চলাচলের পথ বন্ধ না করা হয় এদিকে খেয়াল রাখতে হবে । নিয়মতি খাল পরষ্কিার, রক্ষনাবক্ষেন, ড্রেন পরিষ্কার, সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করলেই ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
জনসাধারণ যদি যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা বিশেষ করে প্লাষ্টিক দ্রব্যাদি না ফেলে,তাহলে পানির প্রবাহ সচল থাকবে। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে ঠিক থাকি, নিজেদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করি , তাহলে খুব শীঘ্রই এই জলাবদ্ধতা নামক এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি