সোমবার ১৮ জুন ২০১৮



বিদ্যুৎ আইন, ২০১৭ অনুমোদন


আলোকিত সময় :
01.08.2017

যথাযথ বাস্তবায়ন দরকার

স্বাধীন দেশে যুগোপযোগী করে কোনো বিদ্যুৎ ইতোপূর্বে প্রণয়ন করা হয়নি। দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চলে আসছিল ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইন দিয়ে। যার ফলে এর কার্যকারিতাও অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার পুরাতন বিদ্যুৎ আইন সংশোধন করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরফলে দীর্ঘ ১০৭ বছর পুরনো বিদ্যুৎ আইনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সেক্টরেও অনেক পরিবর্তন চলে এসেছে। তাই সময়োপযোগী একটি বিদ্যুৎ আইনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অবশেষে বিদ্যুৎ আইন ২০১৭ মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করেছে।

দৈনিক আলোকিত সময়ের খবরে প্রকাশ, ব্রিটিশ আমলে প্রণীত বিদ্যুৎ আইন, ১৯১০-এর সংস্কার এনে ৩১ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ আইন, ২০১৭- এর অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই আইনে বিদ্যুৎ স্থাপনায় নাশকতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে বিদ্যুৎ স্থাপনায় ক্ষতিসাধনকারীর বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কেউ বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপ-কেন্দ্র, বিদ্যুৎ লাইন বা খুঁটি বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি নাশকতার মাধ্যমে ভেঙে ফেললে বা ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে সরবরাহ লাইন বা যন্ত্রের উপর কোনো বস্তু নিক্ষেপ করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

মূলত নতুন আইনে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিসাধনকে স্যাবোটাজ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিরূপণ করা হয়েছে। আগের আইনে এই শাস্তির বিধান ছিল না।

জানা গেছে, এ আইনে সম্পূর্ণ নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- ইনডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর প্রতিষ্ঠান। এটা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য সরকার প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি ইনডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর প্রতিষ্ঠা করবে। এ অপারেটর নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রবাহ মনিটরিং, সিডিউলিং এবং মেরিট অর্ডার ডেসপাস ও বিতরণ ব্যবস্থা বা কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী ন্যায় পরায়ণতার ভিত্তিতে লোড বরাদ্দ করবে। অর্থাৎ লোড ম্যানেজমেন্টের জন্য, কন্ট্রোলের জন্য এ-সংস্থা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে আইনে।

বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানে যথা পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড), আরইবি-তে (পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে এ বিষয়টি আনা হয়েছে। যদি কোনো লাইসেন্সি (বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান) কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো দোষ করে বা বিধি লঙ্ঘন করে তবে শাস্তি পেতে হবে। সেক্ষেত্রে সরবরাহ এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বা বিদ্যুৎ লাইন বা পূর্তকর্ম করলে, আইন বা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখলে, ত্র“টিযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করলে সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন বা বিতরণ কাজে নিয়োজিত কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারী এ আইনে উলে­খিত কোন অপরাধ করলে বা অপরাধ সংগঠনে সহায়তা বা প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্র করলে তিনিও অপরাধের জন্য দণ্ডিত হবেন।

নতুন এ আইন দ্রুত পাস হওয়া এবং বাস্তবায়িত হওয়া দরকার। আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট নানাকাজের ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা ছিল তা দূর হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উৎসাহের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। এজন্য পরবর্তী পদক্ষেপ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে- এটাই প্রত্যাশা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি