বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮



পদ্মার পানি বৃদ্ধি শঙ্কা নিরসনের উদ্যোগ নিন


আলোকিত সময় :
18.07.2017

দেশের বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যাকবলিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। জনজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিসহ। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। এজন্য দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। কিন্তু দেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হতে পারে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের খবর অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ১০টি নদীর পানি ১৪টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, ঘাঘট, আত্রাই, ধলেশ্বরী, কপোতাক্ষ, সুরমা, কুশিয়ারা ও কংস।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের ১৩টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এবারের বন্যায় সাড়ে ৬ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিলেট, মৌলভীবাজার, জামালপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী।

তবে বর্তমানে স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা করছেন না বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলীরা। এর সপক্ষে পাউবো’র বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন যুক্তি দেন যে, স্থায়ী বন্যার ক্ষেত্রে এক সঙ্গে দেশের প্রধান তিন নদী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার পানি বাড়তে হবে। মেঘনায় পানি বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। তাই স্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম। তার মতে, এবার বন্যার মূল কারণ যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি। পানি কিছুটা বাড়লেও যমুনার পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এরপরই পানি কমতে শুরু করবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক তথ্যে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামে ধরলা নদী, সুনামগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ার নদী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে, সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদী, গাইবান্ধায় ঘাঘট নদী, কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদ, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে আত্রাই নদী, টাঙ্গাইলের এলাসিনে ধলেশ্বরী নদী, যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ, সিলেটের কানাইঘাটের সুরমা নদী, নেত্রকোণার জারিয়াজঞ্জাইল এলাকায় কংস নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের অসহনীয় জীবনযাপনের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন, বিশেষ করে নারীরা সামান্য ত্রাণ সহায়তা প্রাপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করছেন। তারা খুবই অনিশ্চয়তা অনুভব করছেন। চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনরাত পার করছেন। ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে-ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করা হচ্ছে। এমন কি ত্রাণ আÍসাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বন্যা দুর্যোগ বাংলার মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। জনগণ আগের মতো ঠিকই জয় করবে সমগ্র বিপদ। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব তো আমরা বেমালুম ভুলে থাকতে পারি না। এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। অসহায় মানুষজন যাতে অসমাপ্ত ভোগান্তিতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দফতর ও কর্মকর্তাদের আন্তরিক ভ‚মিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই। জনমনের শঙ্কা দূরীকরণে সচেষ্ট হতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি