বৃহস্পতিবার ১৬ অগাস্ট ২০১৮



লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্র ঘুরতে চাই : আসাদুজ্জামান রনি


আলোকিত সময় :
14.07.2017

লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্র ঘুরতে চাই : আসাদুজ্জামান রনি

সাহিত্য সম্ভার প্রতিবেদক : ‘কতদূর পৌঁছালো মানুষ? কতদূর পৌঁছানো যায়! পায়ে পায়ে যখন মানুষ অতদূর পৌঁছায়, তখন তাকে আর খুঁজে বের করতে হয় না।’ কবির দেখিয়ে দেয়া অজানা দূরত্বে হাঁটছেন রনি, আসাদুজ্জামান রনি। ক্লাসরুম পেরিয়ে স্লোগান, বিপ্লব পেরিয়ে কবিতা, গান পেরিয়ে লেখালেখি, বই সম্পাদনা; সবই করছেন। আজ মুখোমুখি তিনি।

‘আমার জীবন উপাখ্যান’ সম্পাদনার সময়কাল কিভাবে কেটেছে?

গতানুগতিক আত্মজীবনী নয় যেহেতু এটা, কেস স্টাডি; যতভাবে হারুনর রশীদ খান মুন্নুকে জানা সম্ভব, জেনেছি। তার সাক্ষাৎকার নেয়া থেকে শুরু করে বারবার তার জন্মস্থান মানিকগঞ্জে ছুটে যাওয়া, মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা যাকে আমি পথ ভোলা অবোধ শিশুর মতো অনুসরণ করি, তিনিসহ কিছু প্রাজ্ঞজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলা, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা; এসবেই পেরিয়েছে দীর্ঘ সময়। ফলে, নিখুঁত হয়েছে কাজটা। এই দূরহ কাজটি করতে গিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ, আনিসুল হক ও ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক এই ত্রয়ী মেধাবিদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

কী আছে এই বইতে?

হারুনার রশীদ খান মুন্নু-লক্ষীর বরপুত্র, শিল্প বিপ্লবের পুরোধা। এই প্রজন্মের তরুণ যারা আশাহত এবং আশাবাদী, তারা অন্তত তার মধ্যে আশার মশাল মিছিল খুঁজে পাবে। তাদের হাতেই ঘুরবে দিনবদলের চাকা, গড়বে অর্থনীতির ভিত। তারাই হয়ে উঠবে একেকজন ভবিষ্যত মুন্নু।

আগামী বইমেলার প্রজেক্ট…

দেশবরেণ্য কবিদের লেখা নিয়ে কাজ করছি। সংকলন করবো, আর কী। ইংরেজী ভাষায়। এক মলাটে সেরা কবিতারা থাকবে। মহাদেশ থেকে মহাদেশ ঘুরবে সেসব, পাঠকের হাত ধরে। এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

গানের খবর…

ইংরেজী গানের এ্যালবাম করছি একটা। সেসব গানের কথামালায় গেঁথে আছে বাংলাদেশ। সেটা যখন ছড়িয়ে যাবে বিশ্বসংসারে, এই সোনার দেশটা আরও বেশি কাছাকাছি চলে আসবে সবার, আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠবে। লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে ঘুরতে চাই আমি, ঘুরতে চাই অনেক দামে কেনা বাংলাদেশকে নিয়ে। লিখছি বেশ কিছু গণসঙ্গীতও। পূর্ণ এ্যালবাম হয়েই আসবে বাজারে।

ফাঁকে তো বিজ্ঞাপনেও কাজ করলেন!

ওটা ছিল সমাজ সচেতনতামূলক কাজ। এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পেরে সম্মানীত বোধ করছি। ঢাকার পাবলিক টয়লেটগুলোর বর্তমান অবস্থা ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিয়ে নির্মিত হয়েছিলো বিজ্ঞাপনটি।

আপনার আজকের অবস্থান, এতদূর যে হাঁটছেন; নাও তো হতে পারতো এসব!

নাও তো হতে পারতো। তবে, এই যে হাঁটছি আমি, আজকের রনি হয়ে ওঠার যে চেষ্টা, সেটা করছি; এসবের ক্রেডিট মানিকগঞ্জ মডেল স্কুল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই দুটোই আমার পূনর্জন্মের আঁতুড়ঘর। পা যদি না পড়তো আমার এইসব পবিত্র প্রতিষ্ঠানে, আজকের রনি হয়ে উঠার চেষ্টাটা আমি করতেই পারতাম না।

সেই মানিকগঞ্জ মডেল স্কুলের তো রিইউনিয়ন হচ্ছে শুনলাম!

হ্যাঁ। আপ্লুত আমি, উত্তেজিত। এই স্কুলকে ঘিরে অনেক পবিত্র স্মৃতি আছে আমার। প্রথম প্রেম, প্রথম বিরহ, প্রথম কবিতা, প্রথম গান; সবই এখানে। ‘প্রিয় মানিকগঞ্জ মডেল হাইস্কুল, আমি তোমার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা তুমি ভয় পেওনা মাগো, শুরু হোক তোমার গল্প বলা..’, এমনই কথার থিমসং লিখে ফেলেছি এরই মধ্যে, সুরও ঠিকঠাক।

স্বপ্ন দেখেন?

নিশ্চয়ই। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ একদিন সত্যিসত্যিই লাল সবুজ পতাকার ক্রীতদাস হবে। দেশকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্ছতায়। আমি সেই মিছিলের একজন হবো। চিৎকার করে শ্লোগান উচ্চারিত হবে ‘আমার মা’র নামা বাংলাদেশ’।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি