সোমবার ১৮ জুন ২০১৮



আমাদের পথচলার এক বছর


আলোকিত সময় :
18.06.2017

আমাদের পথচলার এক বছর

করিম আহমদ : দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠতায় বাংলাদেশের যাবতীয় অর্জন ও বিরাট-বিপুল সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে দৈনিক আলোকিত সময়ের স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশ স্লোগান ধারণ করে পথচলার একবছর পূর্ণ হলো। আজ ১৮ জুন আলোকিত সময়ের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
দেশের পরস্পর সম্পর্কিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিকাশে গণমাধ্যমের ক্রমবর্ধিষ্ণু ভ‚মিকা পালনে শরিক হবার সুযোগ পেয়ে আলোকিত সময় গর্বিত। গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনে এ-পত্রিকা শুরু থেকে সর্বদা তৎপর থেকেছে।

সরকার রাষ্টব্যবস্থাকে সর্বজনীন কল্যাণে উন্নতিশীল রেখে তথ্যপ্রযুক্তি ও জীপ্রযুক্তির বিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে দেশের সকল নাগরিকের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সদা সচেষ্ট। দেশের জনসমাজের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন আইন-কানুন, বিধি-ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদির আমূল সংস্কার করে চলেছে সরকার। এসব কল্যাণকর অভিষ্ট লক্ষ্য সাধনের পূর্বশর্ত পূরণের নিমিত্ত সরকার জনগণকে নৈতিক জাগরণীতে উদ্বুদ্ধ করতে সচেষ্ট। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনাসমূহকে বাস্তবায়ন করতে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠনে সরকার প্রয়াসী। জনগণের মধ্যে আগ্রহ, নৈতিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলে গণজাগরণে উদ্বুদ্ধ করে জনগণের মধ্যকার মহৎ সব মানবীয় গুণাবলির জাগরণ ঘটাতে অনেকাংশে সফলও। স্বাধীনতা-বিরোধীদের বিচার, জঙ্গি দমন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, পদ্মাসেতু নির্মাণে সরকারের সফলতা এরই অন্যতম নির্দশন। সরকারের কর্মযজ্ঞ যেন জীবনানন্দের আক্ষেপ -‘এ কেমন অন্ধকার, বঙ্গদেশ উত্থান রহিত’-কে ভ্রান্ত প্রমাণিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সফল ও সার্থক করে তুলছে। এমনকি বিশ্বের বৃহৎ শক্তিবর্গের বিরুদ্ধ-প্রতিক্রিয়ায় উত্থিত যে জঙ্গিবাদ বিশ্বকে অস্থির ও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে, এর ঢেউ থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে সরকারের সফলতা আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুরু থেকেই এ পত্রিকায় গণমাধ্যমের প্রচলিত নীতি-প্রথা অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে সফল সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশংসার পাশাপাশি বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সঠিক গতিপথ অনুসরণের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশে উৎপাদন বাড়ছে, সম্পদ বাড়ছে, মাথাপিছু আয়, মোট জাতীয় আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে- দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের তথ্য যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গণমানুষের কাছে তুলে ধরে জনগণকে অধিকমাত্রায় সরকারঘনিষ্ঠ হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিতকরণে আলোকিত সময় সচেষ্ট থেকেছে। সরকারের ভিশন বাংলাদেশকে একুশ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা, একচলি­শ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তর করা-সহ সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল করার সংগ্রামে আলোকিত সময় গৌরান্বিত অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বলা বাহুল্য, গণমাধ্যম বান্ধব সরকারের কোনরকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নায্যতা অনুসরণের তাগিদ ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে আসছে আলোকিত সময়। একবিংশ শতকে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার যুগে একা চলার কোন পথ খোলা নেই। উন্নত বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি গ্রহণ, বিশ্বখ্যাত দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক ও শিল্পী-সাহিত্যিকদের মহান চিন্তা-চেতনা আত্মস্থ করে নিজেদের উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবার উপায় বের করার তাগিদ দিয়ে আসছে আলোকিত সময়। অস্বীকার করা যাবে না, সামাজিক নায্যতা বাড়ানোয় আমাদের অনেক অর্জন এখনও বাকি আছে। তবে সরকার ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জবাবদিহিতার তোয়াক্কায় বাধ্য করতে যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে। আইনের অপপ্রয়োগ তথা দুর্বৃত্তায়ন যাতে আইনের সঠিক ব্যহার হিসেবে না দেখাতে পারে সেজন্য সতর্ক লেখনি দেওয়া হয়েছে যাতে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা না হারায়। এক্ষেত্রে পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী এবং উন্নয়নকামী মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন আমাদের সাহস জুগিয়েছে।

বিগত বছরের ন্যায় আগামীতেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে গণমাধ্যমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রয়াসে আপনাদের সকলের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে- এই প্রত্যাশা।

-ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আলোকিত সময়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি