সোমবার ১৮ জুন ২০১৮



পানির জন্য শিক্ষার্থীদের পথে নামিতে হইবে কেন?


আলোকিত সময় :
05.06.2017

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দেখা দিয়াছে পানি সংকট। বিশেষ করিয়া সুলতানা রাজিয়া হলে নিরাপদ পানির দাবিতে গত শুক্রবার বিক্ষোভ করেন এই হলের শত শত ছাত্রী। তাহারা পানির দাবিতে বালতি, জগ, বোতল প্রভৃতি পানির পাত্র নিয়া সড়ক অবরোধ করিয়া রাখেন কয়েক ঘণ্টা। তাহাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। মুখে ছিল মুহুর্মুহু স্লোগান। সত্যিই তো পানি ছাড়া কি জীবন চলিতে পারে? আমরা বলি, পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু হল কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি সেই জীবনের মূল্য সম্পর্কে ওয়াকিফহাল? যদি তাহারা এই ব্যাপারে সচেতন ও দায়িত্বশীল হইতেন, তাহা হইলে অবশ্যই দ্রুত ছাত্রীদের পানি সমস্যার সমাধান করিতেন। তাহাদের আর রাস্তায় নামিতে হইত না।

সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ইহার আগেও বেশ কয়েকবার তাহারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করিয়াছে। পানির অভাবে শিক্ষার্থীরা গোসল, খাওয়া-দাওয়া, অজু ইত্যাদি কিছুই করিতে পারিতেছে না। এই রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় তাহারা ভোগ করিতেছে অবর্ণনীয় কষ্ট। পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী বিগত কয়েক মাস ধরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলিতেছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ইহাতে ভোগান্তির শিকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। সমপ্রতি শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের পানি সংকটের সমাধান হইলেও রাজিয়া হলে এই সংকট এখনও লাগিয়া আছে।  কালেভদ্রে যখন পানি দেওয়া হয়, তখন কল ছাড়িলেই পানির সঙ্গে আসে ময়লা। অধিকাংশ সময়ে সেই পানি থাকে দুর্গন্ধযুক্ত। হলের চারটি ব্লকের মধ্যে দুইটি ব্লকে এই সমস্যা প্রকট। একটি ব্লকের পানির দুইটি ট্যাঙ্কই নষ্ট বলিয়া জানা যায়। ফলে তাহাতে পানি ধরিয়া রাখা যায় না। পানির লাইনও অনেক দিনের পুরাতন হওয়ার কারণে পানি সংকট নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি দিনের পর দিন চলিতে পারে না।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকিতে পারে না। নূতন করিয়া পানির পাম্প বসাইতে বা পানির ট্যাঙ্ক সংস্কার করিতে কত অর্থ খরচ হয়? এই অর্থ কি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব?
জানা যায়, ছাত্রীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রলীগের একাত্মতা প্রকাশ করিবার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি নড়িয়াচড়িয়া বসিয়াছেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সহিত আলাপ-আলোচনাও করিয়াছেন। সেই অনুযায়ী গতকাল রবিবারের মধ্যে এই সংকটের সুরাহা হইবার কথা ছিল। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আমরা জানিতে পারিয়াছি যে এই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু হইয়াছে। শুধু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই নহে, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ধরনের সমস্যা কমবেশি আছে। বিশেষত গরমকালে এই সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দেয়। ইহার সমাধানে পূর্ব হইতেই কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে না? শিক্ষার্থীরা তাহাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি জানাইয়াছে নিয়মতান্ত্রিক পথে ও ভদ্র ভাষায়। তাহাতেও যদি কাজ না হয়, তাহা হইলে তাহাদের ক্ষোভ ও হতাশা কোথায় গিয়া পৌঁছাইবে তাহা কি কল্পনা করা যায়? অতএব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পানি সরবরাহের মতো অতি প্রয়োজনীয় সেবার ব্যাপারে অবহেলা প্রদর্শনের কোনো অবকাশ নাই।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি