বৃহস্পতিবার ১৬ অগাস্ট ২০১৮



ড্রাইভার হতে অষ্টম শ্রেণি পাস


আলোকিত সময় :
28.03.2017

সড়কপথে স্বস্তির সহায়ক হবে

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যদিনের স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো হুশিয়ারিই যেন কাজে আসছে না। যেজন্য বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানী। যদিবা কোনো কোনো গুরুতর দোষে চালককে আইনি সাজা দেয়া হয় তাও পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনে তা কার্যকর দুরূহ হয়ে পড়ে। এতে করে চালকরা সাবধানী না হয়ে বরং বেপরোয়া হয়ে পড়েন। যেজন্য কমছে না প্রাণক্ষয়। সরকার দুর্ঘটনা কমাতে ও সড়ক পথে চলাচল স্বস্তিদায়ক করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন বিভিন্ন বিধান সংবলিত ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৭’-এর খসড়া ২৭ মার্চ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে অন্যতম হলো চালকদের ন্যূনতম অস্টম শ্রেণি শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে এবং বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। মূলত ‘দি মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৩’ যুগোপযোগী করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় জন্য প্রয়োজনীয় বিধানসমূহ সংযোজন করা হয়েছে।

দৈনিক আলোকিত সময় সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে মোটরযান চালকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি করতে বিশিষ্টজনদের দাবি থাকলেও তা অষ্টম শ্রেণি রেখে উক্ত আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া প্রস্তাবিত নতুন আইনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, সড়কের ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো ধরনের মোটরযান চলাচল, চালকের সহযোগীদের পঞ্চম শ্রেণি পাস ও লাইসেন্স গ্রহণ, বেপরোয়া কিংবা প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, মদ্যপান করে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র ঘাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠানো-নামানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, নকল লাইসেন্স ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো ইত্যাদি অনিয়মে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এগুলোর কোনো কোনটি পূর্বের অর্ডিন্যান্সে ছিল না, কোন কোনটির দণ্ড বর্ধিত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ড্রাইভিং সংক্রান্ত বিধি-বিধান অমান্য করলে চালকদের পয়েন্ট কমতে থাকবে। ১২টি পয়েন্ট থেকে পর্যায়ক্রমে জিরো হয়ে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকদের অসচেতনতা যা ন্যূনতম শিক্ষা না থাকার কারণে ঘটে বলে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা বিভিন্ন সময় মতামত দিয়েছেন। সেজন্য চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যেসব দাবি তুলেছেন সেসব বিবেচনায় নিয়ে আইনের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে।
উলে­খ্য, দুর্ঘটনার জন্য দণ্ড বিধিতে তিন রকমের বিধান আছে। দুর্ঘটনা যদি (ইচ্ছাকৃতভাবে) নরহত্যা হয়, তবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা প্রযোজ্য হবে যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; অনিচ্ছাকৃত হত্যা না হলে ৩০৪ ধারা, শাস্তি যাবজ্জীবন এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার জন্য ৩০৪ এর (বি) ধারা অনুযায়ী ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আছে। তাই প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণকে জনগণ সাধুবাদ জানাবে। কেননা এর ফলে অকালে ঝরে পড়ে মূল্যবান প্রাণ। সারাজীবনের বোঝা হয়ে যায় সে দুর্ঘটনা। তাই আইনটি দ্রুত পাসের ব্যবস্থা নিতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি