বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮



৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন
রাজনৈতিক দলগুলোকে ধৈর্য ধরতে হবে


আলোকিত সময় :
28.01.2017

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ৩১টি রাজনৈতিক দলের সাথে মাসব্যাপী রাষ্ট্রপতির আলোচনাপর্ব সমাপ্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকল গণমাধ্যম এ খবর ইতোমধ্যে প্রকাশ ও প্রচার করেছে।
দৈনিক আলোকিত সময় সূত্রানুযায়ী রাষ্ট্রপতির নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২৫ জানুয়ারি কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করে। কমিটি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পেশ করবে। কমিটির আহব্বায়ক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরিন আখতার। উলে­খ্য, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন গতবারের সার্চ কমিটিরও প্রধান ছিলেন। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রথমবারের মতো কোনো নারী কমিশনারকে দেখা যাবে। কমপক্ষে একজন নারীসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে সার্চ কমিটিকে। ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ২৩ জন নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে কোনো নারী ছিলেন না।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনাকালে প্রায় প্রতিটি দলই নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়। তবে আইন না হওয়া পর্যন্ত সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দেয় দলগুলো।
গঠিত সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ প্রদান করবে। সার্চ কমিটি গঠনের পর রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রকার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
বৃহৎ দুই দলের প্রতিক্রিয়ায় জানা যায়, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটিকে শুরুতেই বিতর্কিত করলে বিএনপিরই ক্ষতি হবে। নিরপক্ষে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি করেছেন সেটার বিরোধিতা করা বিএনপির জন্য উচিত হয়নি। শুরুতেই এটাকে বিতর্কিত করা ঠিক হবে না। কারণ পরবর্তীকালে দেখা যাবে যেটাকে বিতর্কিত করেছেন তার কার্যক্রমের অধীনেই তারা নির্বাচনে গেছেন।
নির্বাচনকে বিতর্কিত করে অংশগ্রহণ করা কি বিএনপির ঠিক হবে? আবার কি তারা সেই ১৪ সালের মতো করবে? নির্বাচন তো হবেই বাংলাদেশে। সেজন্য আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সবারই সতর্কতার সাথে কথা বলা উচিত।
অপরদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুরো সার্চ কমিটি আওয়ামী লীগ সরকারের পছন্দের অভিযোগ করে বলেছেন, আমরা হতাশ হইনি, ক্ষুব্ধ হয়েছি। দুর্ভাগ্য আমাদের, রাজনৈতিক সংকট থেকে বের হয়ে আশার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল সেই উদ্যোগটিও তিনি গ্রহণ করলেন না। জাতিকে আবার আরেকটি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আবার নির্বাচন নির্বাচন করতে চান। এতে সংকটের সমাধান হবে না।
ইসি গঠনের প্রক্রিয়ায় অযথা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করা ঠিক হবে না। দেশবাসী সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু সুন্দর আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় আছে। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সেই আকাক্সক্ষা পূরণে সকল দলকে দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করতে হবে। দেশের নির্বাচনী আকাশ শুরুতেই কালো মেঘে ঢেকে যাক তা কারোর কাম্য হতে পারে না। সকল দলের ধৈর্যশীল ও দায়িত্বপূর্ণ আচরণই পারে আগামীর সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করতে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি