শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮



ঐতিহ্যের সাক্ষী লোহাগড় মঠ


আলোকিত সময় :
28.01.2017

1 (1)

এস এম সোহেল, চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজার থেকে সড়ক পথে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঐতিহাসিক জমিদার গ্রাম ‘লোহাগড়’। প্রায় ৭/৮শ’ বছরের পুরনো এই গ্রামের মঠটি কিংবদন্তির সাক্ষী হিসেবে এখনো দন্ডায়মান। অথচ কালের আবর্তে সেই মঠটি সংস্কারের অভাবে এখন বিলীন হওয়ার পথে। বর্তমানে সেই স্থানটিতে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় শ্বশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। যদিও প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা জমিদারী ঐতিহ্যের সাক্ষী লোহাগড় মঠটি স্বচক্ষে অবলোকনে ছুটে যাচ্ছে ওই গ্রামে। তাইতো অবহেলায় পড়ে থাকা মঠটি প্রতœতাত্বিক বিভাগকে সংরক্ষনের দাবি জানিয়েছে আগত দর্শনার্থীসহ স্থানীয়রা। দীর্ঘ বছরের পুরনো ‘লোহাগড় মঠটি’ এখনো স্মরন করিয়ে দেয় জমিদারী শাসন-শোষন আর নির্যাতনের চিত্র। যদিও সেই অত্যাচারী শাসক দু’ভাইয়ের নির্যাতন স্বচক্ষে অবলোকনকারী কেহই এখন আর বেঁচে নেই। তবে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধরা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শোনা সেই লোমহর্ষক কাহিনী বর্ননা করেন এই প্রতিবেদকের কাছে। পরম প্রতাপশালী জমিদার পরিবারের সন্তান দু’ভাই লোহ ও গহড়। তাদের নামানুসারে ওই গ্রামটির নামকরন করা হয় ‘লোহাগড়’। দু’সহোদরের মধ্যে সখ্যতা ছিল চোখে পড়ার মত। এরা যখন যা ইচ্ছা তা-ই করতে আনন্দ অনুভব করতো।

জানা গেছে, জনৈক এক বৃটিশ কর্তাব্যক্তি লোহাগড় গ্রাম পরিদর্শনে আসলে তাদের আতিথিয়তা দেখে মুগ্ধ হয়। কথিত আছে, ওই কর্তাব্যক্তির জন্য নদীর তীর হতে জমিদার বাড়ি পর্যন্ত সিকি ও আধুলি মুদ্রা দিয়ে রাস্তা তৈরী করা হয়। যার প্রস্ত ছিল ২ হাত, উচ্চতা ১ হাত ও দৈর্ঘ্য ২০০ হাত। জমিদারী আমলে সাধারণ মানুষ এদের বাড়ির সামনে দিয়ে চলাফেরা করতে পারতো না। বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে নৌকা চলাচল করতো নি:শব্দে। ডাকাতিয়া নদীর কুলে তাদের বাড়ির অবস্থানের নির্দেশিকাস্বরূপ সুউচ্চ মঠটি নির্মাণ করেন।
তাদের আর্থিক প্রতিপত্তির নিদর্শনস্বরূপ তারা মঠের শিখরে একটি স্বর্ণদ­ স্থাপন করেন। জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর ওই স্বর্ণদ­ের লোভে মঠের শিখরে উঠার অপচেষ্টায় অনেকে গুরুতর আহত হয়। শুধৃ তা-ই নয় কেউ কেউ মৃত্যুবরন করেছে বলেও শোনা যায়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি