রবিবার ২ ডিসেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » আরও ১১টি পণ্যে পাট মোড়ক বাধ্যতামূলক
    ব্যবসায়ীদের সক্রিয় ভ‚মিকা রাখতে হবে



আরও ১১টি পণ্যে পাট মোড়ক বাধ্যতামূলক
ব্যবসায়ীদের সক্রিয় ভ‚মিকা রাখতে হবে


আলোকিত সময় :
26.01.2017

পরিবেশ রক্ষার অন্যতম প্রধান উপায় পলিথিন বর্জন। পলিথিন বর্জনের বিকল্প উপায় পাটের ব্যবহার নিশ্চিত করা। পণ্যে পাটজাত মোড়ক বাধ্যতামূলক করার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশ রক্ষা। বিশ্বের সবচেয়ে ভালো পাট উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। পাটের পণ্য মানেই আমাদের নিজস্ব পণ্য। পাটের সঙ্গে রয়েছে আমাদের পুরনো ঐতিহ্য। পরিবেশ উন্নয়নসহ বাণিজ্যিক সুফল লাভের লক্ষ্যে সর্বশেষ আরও ১১টি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
দৈনিক আলোকিত সময়ের সংবাদ সূত্রে প্রকাশ, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ অনুযায়ী গঠিত ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩’-এর তফসিলে ১১টি পণ্য যুক্ত করে ২১ জানুয়ারি গেজেট জারি করেছে সরকার। ১৮ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
ইতিপূর্বে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি- ৬টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। নতুন করে মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা ও তুষ-খুদ-কুড়া- ১১টি যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ১৭টি পণ্যের মোড়কীকরণে বাধ্যতামূলকভাবে পাট ব্যবহার করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে। এরপর এসব পণ্যে পাটের ব্যবহার না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে ব্যবসায়ী সমাজ। কেননা সবাই চান পাটের ভালো অবস্থা ফিরে আসুক।
পাটের উৎপাদন নিশ্চিত করা, পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০ কেজির চেয়ে বেশি পণ্যের মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য। এর ব্যত্যয়ে অনূর্ধ্ব ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে।
সরকার সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণের, বিশেষ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নিয়োজিতদের স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আইনের প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল হতে হবে তেমনি দেশের উন্নয়ন ও বৃহৎ স্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভ‚মিকা রাখতে হবে। তবেই পাটপণ্য ব্যবহারের বহুমুখী সুফল পেতে পারে বাংলাদেশ।
রেলে অত্যাধুনিক কোচ
গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন দরকার
রেলে নতুন করে যুক্ত হলো লাল-সবুজের অত্যাধুনিক কোচ। ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন এ কোচ উদ্বোধন করা হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তুর্ণা প্রভাতী এক্সপ্রেসের সাথে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডাবল লাইন হবে। লাকসাম-আখাউড়া শুধু বাকি আছে। আর ঢাকার যানযট নিরসনে সার্কুলার রেল চালু করতে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে প্যারালাল আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে। অর্থায়ন পেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে বরিশাল ও বরিশাল থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত এবং আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ করা হবে।
শীঘ্রই ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহব্বান করা হবে। আর আগামী মার্চ মাসের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু ও আখাউড়া সেতুর উদ্বোধন করবেন।
রেলখাতে অধিকতর উন্নয়ন ও প্রসার জনবহুল বাংলাদেশের জন্য একান্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রেল ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের দেশে রেল ব্যবস্থা বড়ই মলিন মনে হয়। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে। সেজন্য ইতোমধ্যে গৃহীত এবং গৃহীতব্য প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। দক্ষ পরিচালনা ব্যবস্থার দ্বারা রেলের সাফল্য জনগণের উপকারে নিয়োজিত করতে হবে। দুষ্টু চক্রের কবল থেকে রেলকে মুক্ত করতে হবে যাতে সরকারের অর্জিত সুফল জনগণ ভোগ করতে পারে। জনগণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি